রাহিম একজন সাধারণ যুবক। গ্রামে তার ছোট্ট সংসার। বাবা কৃষক, মা গৃহিণী। পড়াশোনায় সে ভালো ছিল, গ্রামের স্কুলে সবসময় প্রথম হতো। গ্রামের সবাই বলতো—
“এই ছেলে একদিন বড় কিছু করবে।”
কিন্তু বাস্তবতা স্বপ্নের মতো মসৃণ ছিল না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা শেষ করার পর সে ভাবলো ভালো একটা চাকরি পাবে। সরকারি চাকরির জন্য ঘুরলো, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ঘুরলো—কিন্তু কোনো জায়গায় চাকরি মিললো না।
বেকারত্বের কষ্ট
প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে সে ল্যাপটপ খুলে চাকরির বিজ্ঞপ্তি দেখে। পরীক্ষা দেয়, ইন্টারভিউ দেয়, কিন্তু শেষ পর্যন্ত “আমরা দুঃখিত…” ধরনের চিঠি পায়।
বাড়িতে বাবা-মা চাপ দিতে থাকে—
“চাকরি কই? এখনো কিছু করতে পারলি না? সবাই তো সংসারে টাকা দিচ্ছে, আর তুই…”
রাহিমের ভেতরে ভেতরে হতাশা জমে যায়।
ভুল পথে টান
গ্রামের কয়েকজন বন্ধু রাহিমকে বলে—
“ভাই, দেশে কিছু হইব না। দুবাই চলে যা, বা দালালের হাতে টাকা দে, দেখবি কাজ হয়ে যাবে।”
রাহিম একবার ভেবেও ছিল বিদেশে চলে যাবে, কিন্তু ভিসার টাকা, দালালের ঘুষ—এসব তার সাধ্যের বাইরে।
মোড় ঘোরানো ঘটনা
একদিন রাহিম ঢাকায় এক সেমিনারে যায়। সেখানে একজন বক্তা বলছিলেন—
“যুব সমাজ যদি শুধু চাকরির পেছনে ছুটে, তাহলে দেশ এগোবে না। আমাদের চাই উদ্যোক্তা, আমাদের চাই স্কিলড মানুষ।”
সেই বক্তা একটা কথা বললেন, যেটা রাহিমের মাথায় গেঁথে গেল:
👉 “তুমি যদি চাকরি না পাও, তবে তুমি চাকরি তৈরি করো।”
শেষ আশা – এক গ্রামের ছেলের স্বপ্ন
পরিবর্তনের শুরু
রাহিম নতুন করে চিন্তা শুরু করলো। ইন্টারনেটে রিসার্চ করতে লাগলো। দেখলো বাংলাদেশে এখন লাখ লাখ যুবক ফ্রিল্যান্সিং, ই-কমার্স, এগ্রিকালচার স্টার্টআপ, অনলাইন বিজনেস করছে।
সে ঠিক করলো, আর চাকরির পিছনে ছোটবে না।
প্রথম পদক্ষেপ
বাড়ি ফিরে সে বাবাকে বললো—
“আব্বা, আমি চাষাবাদ করব, তবে নতুনভাবে। প্রযুক্তি দিয়ে।”
প্রথমে বাবা রেগে গেলেন—
“এত পড়াশোনা করে আবার জমির দিকে ফিরবি? এটা লজ্জার কথা।”
স্বপ্নের বাংলাদেশ: শর্টকাট নয়, পরিশ্রমই সাফল্যের আসল পথ
কিন্তু রাহিম বুঝালো—
“আব্বা, কৃষি লজ্জার কিছু নয়। এটা বাংলাদেশকে বাঁচায়। আমি চাই এটাকে নতুনভাবে শুরু করতে।”
সংগ্রামের দিন
রাহিম ইউটিউব দেখে হাইড্রোপনিক্স শিখলো। ইন্টারনেটে কোর্স করলো ডিজিটাল মার্কেটিং নিয়ে। ছোট একটা জমিতে সে নতুনভাবে সবজি ফলাতে শুরু করলো।
প্রথম দিকে লোকজন হাসাহাসি করতো।
“এত বিদ্যা পড়ে সবজি চাষ করছে!”
কিন্তু ধীরে ধীরে রাহিম অনলাইনে নিজের ফলানো পণ্য বিক্রি করতে লাগলো। ফেসবুকে একটা পেজ খুলে মার্কেটিং করলো।
সাফল্যের আলো
মাসের পর মাস কষ্ট করার পর অবশেষে রাহিমের পণ্য ঢাকায়, এমনকি দেশের বাইরেও পৌঁছাতে শুরু করলো।
একসময় সেই রাহিম, যাকে সবাই “বেকার” বলতো, সে এখন গ্রামের ২০ জন মানুষকে কাজ দিয়েছে।
শিক্ষণীয় বার্তা
রাহিমের গল্প থেকে আমরা শিখি:
-
শুধু চাকরির পিছনে না ছুটে নিজের স্কিল তৈরি করতে হবে।
-
প্রযুক্তি আর নতুন ধারণা দিয়ে বাংলাদেশকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব।
-
গ্রামের মানুষকে ছোট করে দেখা উচিত নয়, সেখান থেকেই বড় পরিবর্তন শুরু হতে পারে।
-
একবার ব্যর্থ হলে ভেঙে পড়া যাবে না।

