শেষ আশা – এক গ্রামের ছেলের স্বপ্ন

Life Master VK
0

 


বাংলাদেশের একটি ছোট্ট গ্রাম। গ্রামের নাম মধুবন। চারিদিকে সবুজ মাঠ, মাঝখানে কাঁচা রাস্তা, আর দূরে দেখা যায় মাটির ঘরগুলো। এই গ্রামে থাকে রাহাত নামের এক ছেলে। রাহাতের বয়স মাত্র ২২। বাবা একজন দিনমজুর, মা গৃহিণী। ছোট ভাইবোনদের পড়াশোনা চালানো, সংসার চালানো – সব দায়িত্ব যেন রাহাতের কাঁধে এসে পড়েছে।

ছোটবেলা থেকেই সে ভালো ছাত্র ছিল। কিন্তু অভাবের কারণে SSC পাশ করার পর আর পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারেনি। অনেক চেষ্টা করেও টিউশন ফি, বই কেনা, কোচিংয়ের খরচ জোগাড় করতে পারেনি। তাই বাধ্য হয়ে পড়াশোনা ছেড়ে কাজে নেমে যায়।

রাহাত প্রতিদিন সকালে শহরে যায়, রিকশা চালায়, দুপুরে আবার গ্রামে ফিরে ছোট ভাইকে পড়ায়। তার স্বপ্ন ছিল – “একদিন সে বড় হবে, ভাইবোনদের পড়াশোনা শেষ করাবে, বাবা-মাকে কষ্ট থেকে মুক্তি দেবে।”

কিন্তু বাংলাদেশে বর্তমান পরিস্থিতি তাকে হতাশ করে তুলছিল। একদিকে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, অন্যদিকে বেকারত্বের ভয়ানক সমস্যা। শহরে গেলেই দেখা যায় ডিগ্রিধারী যুবকেরা চাকরি পাচ্ছে না। অনেকেই বিদেশ যাওয়ার চেষ্টা করছে, আবার কেউ কেউ হাল ছেড়ে দিয়ে অন্ধকার পথে পা বাড়াচ্ছে।

রাহাত সব দেখছে, সব অনুভব করছে। মাঝে মাঝে রিকশা চালাতে চালাতে ভাবে –
“আমি যদি SSC পাশ করেই থেমে যাই, তবে কি আমিও একদিন ভিড়ের মধ্যে হারিয়ে যাব? আমার স্বপ্ন কি কেবল স্বপ্নই থেকে যাবে?”


ছোট্ট সচেতনতা, বড় পরিবর্তন


মোড় ঘোরা মুহূর্ত

একদিন রাহাত যাত্রী তুলতে শহরে গিয়েছিল। এক যাত্রী উঠল, বয়স্ক একজন শিক্ষক। কথায় কথায় শিক্ষক জানতে পারলেন, রাহাত পড়াশোনায় ভালো ছিল কিন্তু অভাবের কারণে ছাড়তে হয়েছে। শিক্ষক গভীরভাবে তাকিয়ে বললেন—

“বাবা, অভাব কোনোদিন স্বপ্ন কেড়ে নিতে পারে না। তুমি চেষ্টা করলে এখনও পারবে। এখন অনলাইনে অনেক কিছু শেখা যায়। সময়টা নষ্ট কোরো না, প্রতিদিন অন্তত এক ঘণ্টা শেখার চেষ্টা করো।”

রাহাতের ভেতরে যেন আগুন জ্বলে উঠল। সেদিন রাতে ঘরে ফিরে সে পুরনো মোবাইল বের করল। ইন্টারনেট চালু করে ইউটিউব আর ফেসবুকে অনলাইন কোর্স খুঁজতে শুরু করল। প্রথমে ছোট ছোট ভিডিও দেখে ইংরেজি শেখা শুরু করল। ধীরে ধীরে কম্পিউটার স্কিল, গ্রাফিক্স ডিজাইন, ফ্রিল্যান্সিং শেখার দিকে ঝুঁকল।


সংগ্রামের দিন

এভাবে চলতে চলতে রাহাত দিনে রিকশা চালাত, আর রাতে অনলাইনে পড়াশোনা করত। ঘুমের সময় কমে গেল, শরীর ক্লান্ত হয়ে যেত, কিন্তু স্বপ্নের আগুন তাকে টেনে নিয়ে যেত।

প্রথম কয়েক মাস কোনো কাজ পেল না। অনেকেই হাসাহাসি করত –
“রিকশাওলা আবার ফ্রিল্যান্সার হবে?”
কিন্তু রাহাত হাল ছাড়ল না।

স্বপ্নের বাংলাদেশ: শর্টকাট নয়, পরিশ্রমই সাফল্যের আসল পথ

অবশেষে একদিন এক বিদেশি ক্লায়েন্ট তার কাজ দেখে তাকে অর্ডার দিল। কাজ শেষে পেমেন্ট পেল ২০ ডলার। রাহাতের চোখে পানি এসে গেল। কারণ এই ২০ ডলার তার কাছে স্বপ্ন পূরণের প্রথম ধাপ।


সাফল্যের পথে

দিন যেতে লাগল, রাহাতের কাজ বাড়তে লাগল। ছোট ঘরে বসে মোবাইল ফোন দিয়ে শুরু করা সেই যাত্রা একসময় তাকে ল্যাপটপ কিনতে সাহায্য করল। এরপর সে নিজের ভাইবোনদের পড়াশোনার খরচ চালাতে লাগল। বাবা-মায়ের কষ্ট ধীরে ধীরে কমতে লাগল।

গ্রামের মানুষ যাকে একসময় তুচ্ছ করত, সেই রাহাত এখন গ্রামের যুবকদের অনুপ্রেরণা হয়ে উঠল। সবাই তার কাছে এসে জিজ্ঞেস করে –
“কিভাবে শুরু করব?”
“কোথায় শিখব?”

রাহাত তখন শুধু একটা কথাই বলে –
“পরিশ্রম আর ধৈর্য ছাড়া কোনো স্বপ্ন পূর্ণ হয় না।”


ফেসবুক প্রেমের ছ্যাকা – রিদয়ের অসমাপ্ত গল্প


এই গল্প থেকে শিক্ষণীয় বিষয়

  1. অভাব থাকলেও স্বপ্ন দেখা বন্ধ করা উচিত নয়।

  2. প্রযুক্তি এবং ইন্টারনেট আজকে আমাদের বড় সুযোগ এনে দিয়েছে।

  3. হাল ছেড়ে দিলে জীবন থেমে যাবে, কিন্তু লড়ে গেলে একদিন সাফল্য আসবেই।

  4. বাংলাদেশে এখন হাজারো তরুণ রাহাতের মতো পরিস্থিতির শিকার। কিন্তু যার ভেতরে ইচ্ছাশক্তি আছে, সে পথ বের করে নিতে পারবেই।


#Bangladesh
#LifeStory
#TrueStory
#Motivation
#Inspiration
#PositiveVibes
#BanglaStory
#LifeLessons
#SocialAwareness
#ChangeBangladesh
#YouthVoice
#DailyLifeBD
Tags

Post a Comment

0 Comments

Post a Comment (0)
3/related/default