ঢাকার এক ছোট এলাকায় থাকে রিদয় নামের এক তরুণ। বয়স মাত্র ২৩। সে সদ্য গ্রাজুয়েশন শেষ করেছে। পড়াশোনায় খুব খারাপ না হলেও, মনের ভেতর এক অস্থিরতা সবসময় তাকে পেয়ে বসে—
"কীভাবে আমি দ্রুত টাকা কামাতে পারি?"
ফেসবুকে বসে থাকতে থাকতে সে প্রায়ই দেখে—
“এক মাসে লাখ টাকা ইনকাম, ঘরে বসেই আয়, অনলাইনে কোটি টাকার ব্যবসা” ইত্যাদি বিজ্ঞাপন।
সে ভাবে— “পড়াশোনা করে সরকারি চাকরি পেতে তো বছর চলে যাবে, তাও হয়তো হবে না। কিন্তু এই অনলাইন কাজ তো একদম সহজ। আমি দুই মাসেই গাড়ি কিনে ফেলতে পারব।”
প্রথম ভুল
রিদয় একদিন এক বিজ্ঞাপন দেখে ইনবক্সে মেসেজ করে। তাকে বলা হলো—
"ভাই, ১০ হাজার টাকা ইনভেস্ট করলেই মাসে ৫০ হাজার আয় করবেন।"
সে কোনো চিন্তা না করেই মায়ের সঞ্চয় থেকে টাকা নিয়ে পাঠিয়ে দিল। কিন্তু কয়েকদিন পরই সে বুঝল, এটা একটা স্ক্যাম। টাকা গেল, আর ফেরত এল না।
মায়ের কষ্টার্জিত টাকার কথা ভেবে তার বুক ফেটে কান্না আসলো। মা শুধু বলল—
"বাবা, টাকা হারালে আবার জোগাড় করা যাবে। কিন্তু মনে রেখো, জীবনে শর্টকাট বলে কিছু নেই।"
নতুন চেষ্টা
মায়ের কথায় কিছুটা বদল এলো রিদয়ের মনে। এবার সে গুগলে সার্চ করতে লাগলো— “কীভাবে অনলাইনে সত্যিকারের কাজ শেখা যায়”।
সে দেখল অনেক তরুণ-তরুণী গ্রাফিক ডিজাইন, ওয়েব ডেভেলপমেন্ট, ডিজিটাল মার্কেটিং, কনটেন্ট রাইটিং ইত্যাদি শিখে সত্যিই কাজ করছে।
তখন সে ভাবল—
"যদি ওরা পারে, আমিও পারব। কিন্তু সময় লাগবে। আমি প্রস্তুত আছি।”
সে ফ্রি কোর্স থেকে শেখা শুরু করল। প্রথমে খুব কঠিন মনে হলো। ইংরেজিতে অনেক কিছু বুঝতে পারছিল না। কিন্তু এবার সে হাল ছাড়ল না। প্রতিদিন ৪-৫ ঘণ্টা সময় দিয়ে ধীরে ধীরে দক্ষ হয়ে উঠল।
সাফল্যের প্রথম আলো
৬ মাসের পরিশ্রমের পর রিদয় ফ্রিল্যান্সিং সাইটে প্রথম কাজ পেল। খুব ছোট কাজ, কিন্তু টাকা পেল ১০ ডলার।
সেদিন রাতে সে মায়ের হাতে টাকা দিল আর বলল—
"এটাই আমার প্রথম উপার্জন। ছোট, কিন্তু সৎভাবে অর্জিত।"
মায়ের চোখ ভিজে উঠল আনন্দে।
স্বপ্নের সাইকেল 🚲 | হৃদয়ছোঁয়া অনুপ্রেরণামূলক গল্প
বাংলাদেশের বাস্তবতা
রিদয় ফেসবুকে মাঝে মাঝে দেখত, তার বন্ধুরা কেউ কেউ ড্রাগসে জড়িয়ে পড়ছে, কেউ আবার বিদেশ যেতে গিয়ে প্রতারিত হচ্ছে। অনেকে আবার শুধু শর্টকাটের পিছনে দৌড়ে জীবন নষ্ট করছে।
সে নিজের অভিজ্ঞতা থেকে বুঝল—
👉 “আমরা যদি সঠিক পথে এগোই, তবে বাংলাদেশকেও এগিয়ে নেওয়া সম্ভব।”
আজ বাংলাদেশে লাখো তরুণ আছে, যারা শুধু মোবাইলে ফেসবুক স্ক্রল করে সময় নষ্ট করছে। অথচ সেই মোবাইল দিয়েই শেখা যায় নতুন কিছু। তৈরি করা যায় নিজের ক্যারিয়ার।
পরিবর্তনের গল্প
রিদয় নিজের অভিজ্ঞতা ফেসবুকে লিখতে শুরু করল। সে বলল—
"বন্ধুরা, শর্টকাটে জীবন বদলায় না। টাকা একদিনে আসে না। যদি সত্যিকারের সাফল্য চাও, তবে দক্ষতা অর্জন করো। বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ আমাদের হাতে।"
ধীরে ধীরে তার পোস্ট ভাইরাল হতে লাগল। অনেক তরুণ অনুপ্রাণিত হয়ে তার সাথে যোগাযোগ করল। রিদয় একটি ফ্রি অনলাইন কমিউনিটি বানাল, যেখানে সে নতুনদের শেখায়—
-
কিভাবে স্ক্যাম থেকে বাঁচতে হয়।
-
কিভাবে সত্যিকারের দক্ষতা অর্জন করা যায়।
-
আর কিভাবে সময় নষ্ট না করে কাজে লাগানো যায়।
পরিণতি
৩ বছর পর, রিদয় শুধু সফল ফ্রিল্যান্সারই নয়, একজন সামাজিক কর্মীও হয়ে উঠল। সে তরুণদের শেখায়—
"ভাই, বাংলাদেশ বদলাবে না, যদি আমরা নিজেদের বদলাতে না পারি। বিদেশে কাজের পিছনে না ছুটে, এখানেই কিছু করতে পারি। শুধু দরকার সঠিক দিক আর পরিশ্রম।”
তার কথা শুনে অনেকে নিজের জীবন বদলাতে শুরু করল।
শিক্ষণীয় বার্তা
👉 জীবনে কোনো শর্টকাট নেই।
👉 স্ক্যাম আর মিথ্যা প্রলোভন থেকে দূরে থাকো।
👉 দক্ষতা অর্জন করো, সময় বিনিয়োগ করো, সফলতা আসবেই।
👉 বাংলাদেশ বদলাতে হলে তরুণদের সঠিক পথে চলতে হবে।

